
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী দুর্যোগের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনবরত বৃষ্টি বহাল থাকায় রাতের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে শঙ্কা স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও মাথাসমান পানি। বসতবাড়ির রান্নাঘর, শোবার ঘরসহ বিভিন্ন কক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যাচ্ছে।
শুধু বসতবাড়িই নয়, পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও। এতে কৃষকদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গৃহপালিত পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অসংখ্য পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দেশের বিভিন্ন মানবিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল এবং বিত্তবান মানুষের প্রতি দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালীতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দুর্যোগে উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা আজও উপকূলীয় জনপদের মানুষের কাছে এক বেদনাময় স্মৃতি হয়ে রয়েছে। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি সেই বিভীষিকাময় সময়ের স্মৃতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।