• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
উৎকন্ঠার রাত বাঁশখালীবাসীর, ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা বাসিন্দাদের ‘আশপাশের সব বাড়িতে পানি, একটু পর আমাদের বাড়িতেও ঢুকবে’ প্রাইভেটকারের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেছে কর্ণফুলী টানেলের ডেকোরেটিভ বোর্ডে ভারী বর্ষণে মাতামুহুরির ভয়ংকর রূপ, ডুবেছে ৩৮ হাজার বাসিন্দার গ্রাম ৪২ বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম, পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু চট্টগ্রামে ক্যারিয়ার এক্সপোতে সরাসরি ইন্টারভিউ ও চাকরির সুযোগ লালদিয়ার চরে কোনো পক্ষই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।। চসিক মেয়র ডাঃ শাহাদাত স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার অঙ্গীকারে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস পালন করল চট্টগ্রাম জেলা প্রেস ক্লাব চসিক এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’  মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন চসিক এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’  মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন

আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় রাত কাটাচ্ছে সাতকানিয়া-লোহাগাঢ়ার বাসিন্দারা

‘আশপাশের সব বাড়িতে পানি, একটু পর আমাদের বাড়িতেও ঢুকবে’

মাহতাব রামিম / ১০
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
inqilab online desk 9 20260708165701

“অনেক বেশি পানি। বৃষ্টি থামছে না, তাই পানিও দ্রুত বাড়ছে। আমাদের আশপাশের প্রায় সবার বাড়িতে পানি ঢুকেছে। একটু পর আমাদের বাড়িতেও ঢুকবে।”— এভাবেই নিজের আতঙ্কের কথা লিখেছেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা শাহানিল চৌধুরী। মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাত প্রায় আড়াইটার দিকে একই গ্রুপে তিনি আবার লেখেন, “এখনও তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। তবে পানি বাড়ছে, আর অবিরাম বৃষ্টিই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।”

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের মতো চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলাও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়েছে। এসব উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

টানা প্রায় ৪২ ঘণ্টার রেকর্ড বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ঢলু, সাঙ্গু ও টংকাবতী খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাতে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন। ছড়িয়ে পড়ছে বন্যা পরিস্থিতির নানা ভিডিও।

দেশবিদেশ ২৪-এর হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত ঘরবাড়ি ডুবে রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে পানি আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় এখনো পানি প্রবেশ করেনি, সেখানকার বাসিন্দারাও চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সালের আগেও এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। তাদের অভিযোগ, তিন উপজেলার মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কালভার্ট ও পানি চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় বন্যার পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে দীর্ঘ সময় পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

তবে স্থানীয়দের এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এআরই/দেশবিদেশ


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ