
চকবাজার, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ, অক্সিজেনসহ নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকার সড়ক, অলিগলি, ভবনের নিচতলা ও দোকানপাটে পানি উঠেছে। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও হাসপাতালের নিচতলাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারের রান্নার চুলাও পানিতে তলিয়ে গেছে।
নগরের বাইরেও একই চিত্র দেখা গেছে। হাটহাজারী, রাউজান, সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালীসহ জেলার প্রায় সব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সন্দ্বীপে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ষোলশহর স্টেশনে আটকে পড়া কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ধসে প্রাণ গেছে এক শিশুর। নগরের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া নামে এক শিশু। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল। ওই সময় ভয়াবহ পাহাড়ধস ও বন্যায় চট্টগ্রামে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার সেই বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্কতা জারি রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলছে মাইকিং। এছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়র ১০১ সদস্যের একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছেন।