
দ্রো ফের্নান্দেস ঘিরে বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ ভাবছিলেন অনেকেই। কোচ হান্সি ফ্লিক নিজেও একাধিকবার তার ওপর আস্থার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সবকিছুর মাঝেই হঠাৎ জানুয়ারির দলবদলেই ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এই উঠতি তারকা। মূলত নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়াই তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ বলে জানা গেছে।
এরপর থেকেই ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাব তার দিকে নজর দেয়। শেষ পর্যন্ত পিএসজিকেই বেছে নেন দ্রো। ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে সরাসরি ফোন করে কথা বলে তরুণ উইঙ্গারকে রাজি করান।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে, ২০২২ সালে বার্সেলোনার একাডেমিতে যোগ দেন দ্রো। তখন তাকে পেতে আগ্রহ দেখিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল বেতিসও। তবে সব প্রস্তাব ছাপিয়ে কাতালান ক্লাবেই পা রাখেন তিনি। ‘বি’ দল হয়ে দ্রুত মূল স্কোয়াডে জায়গা করে নেন এবং প্রাক-মৌসুম এশিয়া সফরেও ছিলেন। চলতি মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয় তার।
কিন্তু সুযোগের অভাব তার অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ১৪৮ মিনিট মাঠে নামার সুযোগ পান দ্রো। সর্বশেষ খেলেছেন ২ ডিসেম্বর। হান্সি ফ্লিকের কৌশলগত পরিকল্পনায় নিকট ভবিষ্যতে নিজের অবস্থান অনিশ্চিত দেখেই ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বার্সা কোচ ফ্লিক। প্রকাশ্যেই তিনি বলেন, শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়—এমন খেলোয়াড় তার দলে প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি আশপাশের লোকজন ভুল পথে পরিচালিত করছে বলেও ইঙ্গিত দেন তরুণ এই ফুটবলারকে নিয়ে।
গত ১২ জানুয়ারি ১৮ বছরে পা রাখেন দ্রো। বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ তখন তার সঙ্গে নতুন চুক্তি ও বড় রিলিজ ক্লজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করলেও, উল্টো ক্লাব ছাড়ার বার্তা দেন তিনি।
অবশেষে সেই ইচ্ছাই বাস্তব রূপ পেল। নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দ্রো ফের্নান্দেস।
তিনি বলেন, পিএসজিতে যোগ দিতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত ও গর্বিত। আমার ও আমার পরিবারের জন্য এটি এক বিশেষ মুহূর্ত। এই জার্সিতে মাঠে নেমে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।
এমএইচ/এমআর/দেশবিদেশ