
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাউজানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। এটি শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদলের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই নির্বাচন আগামী একশ’ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষ আর রক্তপাত নয়—শান্তিতে বসবাস করতে চায়। একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যাশা করছে জনগণ। ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের বিবেক ও মেরুদণ্ড বিক্রি না করেন। পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রশাসন কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসীসহ দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী নির্বাচনকালীন সময়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।
যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত গাড়িবহর প্রদর্শন করা হয়। পরে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, রাউজান উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৯৫টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত উদ্যোগে রাউজানে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রায়হান/দেশবিদেশ