
দেশকে অস্থিতিশীল করতে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরোধ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ আঠারো বছরের পরিমানিক ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা অভিযোগ করে যে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের সহযোগীরা দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
ছাত্র নেতারা বিবৃতিতে আরও দাবি করেন, গতকালে সারাদেশে লগি-বৈঠার তাণ্ডব, দীর্ঘ সময় ধরে গুম-খুন, গণহত্যা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণে এসব গোষ্ঠী দেশকে অকার্যকর করে তুলতে কাজ করেছে। তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্ষায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই দায়বোধ থেকে সরকারের উচিত নাশকতা, ককটেল-আক্রমণ, অগ্নিকাণ্ড ও ধর্মীয় স্থাপনায় হুমকিস্বরূপ হামলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।
বিবৃতিতে তারা উদ্বেগপ্রকাশ করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই মাসের গণহত্যায় জড়িত সন্দেহভাজনরা এখনও নির্বিঘ্নে ঘুরছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এসব সন্ত্রাসীদের শেকড় থেকে উৎখাত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে নিয়মিত টহল এবং চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য, জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে বলেছে ছাত্র সংসদগুলো।
অবশেষে তারা দাবি করেছেন, দেশদ্রোহী ও গণহত্যাকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হলে জাতির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যার বিচারে দ্রুত ও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানো উচিত।
নুসরাত ফাহা/দেশবিদেশ