
“জাতির স্বাধীনতা কয়েকজনের চাকরির চেয়ে বড়”- প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। জাতিসংঘ থেকে সাংবাদিক সমাজ সবাই বলছে, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ভয়াবহ আঘাত।
সরকার হঠাৎ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, হোয়াটসঅ্যাপসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে। যুক্তি, নিবন্ধনের শর্ত পূরণ হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো,মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করে কি দুর্নীতি কিংবা ভুয়া তথ্য রোধ করা যায়?
মূলত তরুণরা। স্কুল ইউনিফর্মে কিশোররাও। তাই আন্দোলনের নাম হয়েছে “জেন-জেড প্রোটেস্ট”। তাদের স্লোগান: “যুবসমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে”। টিকটক হয়ে ওঠে সংগঠনের হাতিয়ার।
কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত। আহত দুই শতাধিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, জলকামান, লাঠিচার্জ—সব ব্যবহার করেছে। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
বিশ্ব কী বলছে?
জাতিসংঘ উদ্বেগ জানিয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ভয়াবহ আঘাত। সাংবাদিক সমাজও স্লোগান তুলেছে, “গণতন্ত্র হ্যাকড, কর্তৃত্ববাদ ব্যাক”।
কেপি শর্মা অলি বলছেন-“জাতির স্বাধীনতা কয়েকজনের চাকরির চেয়ে বড়।” কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন- স্বাধীনতা কি মানুষের কণ্ঠরোধ করে টিকিয়ে রাখা যায় কী?
সংসদে নতুন আইন আসছে। সেখানে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ কনটেন্ট প্রকাশে কারাদণ্ড, জরিমানা, এমনকি সংবাদপত্র বন্ধ ও সাংবাদিকদের লাইসেন্স বাতিলের মতো বিধান থাকতে পারে। প্রশ্ন জাগে, নেপাল কি গণতন্ত্র থেকে ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদে পিছিয়ে যাচ্ছে?
এমকেআর/দেশবিদেশ