সমুদ্রে যদি জাহাজ ডুবে, তা-কি সমুদ্রের দোষ- মেয়রের প্রশ্ন





শেয়ার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ সরকারের মেগাপ্রকল্পসহ যে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে সে ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ ও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী সরকারের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

 

তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে পরপর যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে তাতে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কষ্ট পেলেও তা লাঘবে আমার ক্ষমতা খুবই সীমিত। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান বা নির্বাহকারক প্রতিনিধিগণ সরকারী নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা প্রদানের আওতা বহি:ভূত। এক্ষেত্রে চসিক মেয়র হিসেবে সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নেতৃত্ব দেয়ার অধিকার বিধি সম্মত দেয়া অতীব প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

 

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আন্দরকিল্লাস্থ পুরাতন নগর ভবনের কে.বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চসিক ষষ্ঠ পরিষদের অষ্টম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

 

তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা ও জনভোগান্তিগুলোকে চিহ্নিত করে তা সমাধানে চসিক ও চউক প্রকৌশলী পর্যায়ে একটি তদারকী কমিটি গঠিত হয়েছিলো। এই কমিটি সরজমিনে গিয়ে সমস্যা সনাক্ত করলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সমাধানের কোন প্রতিফলন দেখা যায় নি। আরো উদ্বেগজনক হলো, যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং ঐ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় প্রতিনিয়তই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ এর জন্য চউকের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী চসিকের প্রতি দোষারোপ করে যে সকল বিদ্বেষমূলক উক্তি গণমাধ্যমে প্রকাশ করছেন তাতে আন্ত: সংস্থা (চউক ও চসিক) বিরোধ সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস বলে মনে করি। এ কারণে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই প্রশ্ন জাগে ঐ প্রকৌশলী কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। 

 

তিনি চসিকের বিরুদ্ধে দোষারোপকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সমুদ্রে যখন জাহাজ চলে তা যদি নাবিকের অসর্তকতার কারণে দুর্ঘটনা কবলিত হয় তা তো সমুদ্রের দোষ হতে পারে না। অনুরূপ যারা মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তারা জন নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করতে না পারলে তা প্রকল্পের দোষ নয়। 

 

তিনি নগরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্ত:সংস্থাগুলোর উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমন্বয় এবং তা সাধন ও সম্পাদনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কর্তৃত্ব প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারের ভাবমুর্তি ও প্রকৃত জনস্বার্থ রক্ষায় আমার পূর্বসূরী এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী যে ভূমিকা পালন করেছিলেন আমি তা করতে চাই। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করি। তিনি নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ওয়ার্ডে চসিক সহ যে সকল সেবাসংস্থাগুলো কাজ করবে তাদেরকে সে কাজ সম্পর্কে আগে-ভাগে অবগত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

 

তিনি বলেন, দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ, সাংবিধানিকভাবে এই সত্যটি সুস্পষ্ট; সে কারণে রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের নিরাপত্তা দেখভাল করা দায়িত্ব জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের উপর বর্তায়। মেয়র সাধারণ সভায় নগরীর যে সকল রাস্তা ও অলিগলি অতিবৃষ্টির কারণে খান-খন্দক সৃষ্টি হয়েছে তা প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে মেরামত ও বর্জ্য অপসারণের কাজগুলোও রাতের বেলায় সম্পাদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অব্যাহত রাখার কথা পুন:ব্যক্ত করেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন বলে সভায় উল্লেখ করেন। 

 

চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলমের সঞ্চালনায় প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন, মো. গিয়াস উদ্দিন, আফরোজা কালাম, চসিক সচিব খালেদ মাহমুদ, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিকসহ চসিক কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও বিভাগীয় কর্মকর্তারগণ বক্তব্য রাখেন। সভার শুরুতে কোরাণ তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চসিক মাদ্রাসা পরিদর্শক আলহাজ¦ মাওলানা মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী।

 

চট্টগ্রাম


শেয়ার