
চট্টগ্রামে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে নগরের জনপ্রিয় খাবারের প্রতিষ্ঠান কাচ্চি ডাইন ও গ্র্যান্ড সিকদার হোটেলসহ চারটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এসব অপরাধে সংশ্লিষ্ট চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নগরের জামাল খান মোড় ও চেরাগী পাহাড় মোড়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অভিযানে কাচ্চি ডাইনের জামাল খান মোড় শাখায় তৈরিকৃত জুসে হাতে লেখা মেয়াদের মোড়ক ব্যবহার এবং খাবারে পেপার পাওয়া যায়, যা হাইকোর্ট কর্তৃক নিষিদ্ধ। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে, জামালখানের গ্র্যান্ড সিকদার হোটেলে আরও ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের ২ থেকে ৩ দিনের বাসি গ্রিল খাবার পরিবেশন করছিল—এমন প্রমাণ পাওয়ায় হোটেলটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও অভিযানে আরও দুটি দোকানে মানসম্মতবিহীন খাবার পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা কাচ্চি ডাইন নামের রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহার, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় একাধিকবার অভিযান ও জরিমানা করা হলেও তারা সংশোধনের পথে আসছে না, এমন মন্তব্য করেছেন ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও।
এর আগে, কাচ্চি ডাইনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হাজী কাচ্ছি ঘরকে একই ধরনের অপরাধে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধন না করায় প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এবারও যদি কাচ্চি ডাইনের জামালখান শাখা সংশোধন না হয়, তাহলে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
অভিযান সম্পর্কে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার বলেন,“আজকের অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এআর/দেশবিদেশ