
আজ মহান বিজয় দিবস। দেশমাতৃকার টানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। ভোরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই নগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে জমে ওঠে শ্রদ্ধা, আবেগ ও ভালোবাসায় ভরপুর এক অনন্য পরিবেশ।
৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভের শহীদ মিনারে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিস্তম্ভ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে সেখানে। কেউ ফুল হাতে, কেউ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে, আবার অনেকের হাতে ছিল লাল–সবুজের জাতীয় পতাকা। মানুষের পদচারণা ও আবেগঘন উপস্থিতিতে স্মৃতিস্তম্ভ এলাকা পরিণত হয় এক হৃদয়স্পর্শী মিলনস্থলে।
এরপর কাজীর দেউড়ী জেলা স্টেডিয়ামে বিজয় দিবস উপলক্ষে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন। দিনের শেষাংশে সার্কিট হাউজে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
বিজয় দিবস উদযাপনে মেতে ওঠে রাজনৈতিক দলগুলোও। এদিন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নগরের পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় বিজয় র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপি নেতা মীর হেলাল, আবু সুফিয়ান, আবুল হোসেন বক্করসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বিজয় সমাবেশ
এছাড়াও বিজয় র্যালি ও সমাবেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ, ইসলামী ছাত্র শিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।