আজকের সর্বশেষ


হারিয়ে গেছে ঈদ কার্ড -মো.মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার





শেয়ার

ওই দেখা যায় ঈদের চাঁদ/বাড়িয়ে দিলাম দুটি হাত। মিষ্টি মুখের হাসিতে/দাওয়াত দিলাম আসিতে’ এরকম নানা ধরনের আবেগ-ভালোবাসার বার্তায় ঈদ কার্ডের মাধ্যমে বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনকে ঈদের শুভেচ্ছা আদান-প্রদান করা হতো। একটা সময় ঈদ আসলেই পাড়া-মহল্লার অলিতে গলিতে বসত ঈদ কার্ডের ছোট ছোট দোকান।

বিক্রেতা থাকত পাড়ার যুবক কিশোররা। সারা দোকানে সুতো টাঙিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো বর্ণিল আর নানা আকারের কার্ড। ফুল, পাখি, প্রজাপতি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, মসজিদ, মক্কা শরীফের ছবি সম্বলিত কার্ডগুলোর গায়ে বড় করে লেখা থাকত ‘ঈদ মোবারক’। কোনো কোনো কার্ডের বিশেষত্ব বাড়ানোর জন্য কার্ডে জুড়ে দেওয়া হতো সোনালি আর রূপালী জরি। স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা হুমড়ি খেয়ে পড়ত দোকানগুলোতে। বন্ধুদের জন্য কিনত পছন্দের ঈদ কার্ডটি। আর যত্ন করেই সেই ঈদ কার্ডের ভেতরেও লেখা হতো বন্ধুর জন্য ভালোবাসার কথা। আবার প্রিয়জনের কাছ থেকে এরকম ঈদ কার্ড না পেলে দানা বেঁধে উঠতো অভিমান।

 

তবে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘ঈদ কার্ড’ এখন অতীত। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে মহল্লার দোকানগুলো। হলমার্ক, আড়ং, আর্চিসসহ গুটিকয়েক বড় বড় শোরুম বা গিফট হাউসগুলোতে এখনো কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু তার ক্রেতা নেই বললেই চলে। সময়ের বিবর্তনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে এসেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। ডিজিটাল মাধ্যমে শুভেচ্ছা আদান-প্রদানের হার বেড়ে যাওয়ায়, হারিয়ে গেছে ঈদ কার্ডের আবেদন। এ স্থানে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফোনে এসএমএস। তবে সে সংখ্যাও গুটি কয়েক। বরং ভার্চুয়াল ঈদকার্ড বা ই-কার্ডের মাধ্যমে ফেসবুক বা ইমেইলে বন্ধু-বান্ধব, আপনজনকে শুভেচ্ছা পাঠিয়ে দায় সারছে মানুষ।

 

অফিসিয়ালিও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে ই-মেইলের মাধ্যমে। বিভিন্ন অফিস বা পেশাজীবীরা শুভেচ্ছা জানান ই-মেইলে। আবার বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্টও তাদের গ্রাহকদের ই-মেইলের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কখনো কখনো হোটেল বা অফিসে বিশেষভাবে অর্ডার দিয়ে ঈদ কার্ড তৈরি করে তা নিজেদের গ্রাহক বা অংশীদারদের পাঠান।

 

তবে ই-কার্ডের শুভেচ্ছা বার্তায় ঈদ কার্ডের মতো ভালোবাসা ও আন্তরিকতার ছোঁয়া পাওয়া যায় না বলে অনেকেই মনে করেন। তবে ঈদ কার্ডের আবেদন আমার কাছে আজো অমলিন।

( সাংবাদিক, সংগঠক ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মী )

মুক্তমত


শেয়ার