আজকের সর্বশেষ


একটি চমৎকার নির্মাণ ডুবোচর টেলিফিল্ম-এমপি মিতা





শেয়ার

সন্দ্বীপের ইতিহাসে এই প্রথম সন্দ্বীপের প্রযোজনায় টেলিফিল্ম নির্মিত হয়েছে। ডুবোচর টেলিফিল্ম একটি চমৎকার নির্মাণ। ৩মে বুধবার বিকেলে কবি আব্দুল হাকিম অডিটোরিয়ামে  ভোরের পাখি সাহিত্য মেলার আয়োজনে সন্দ্বীপের জনপ্রিয় টেলিফিল্ম "ডুবোচর" এর শুভ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব বলেন, সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা। তিনি বলেন, ডুবোচর একটি অনাবদ্য সৃষ্টি। ইউটিউবে প্রচার হলে সন্দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষ এটি দেখবে।  গল্পটিতে জেলেরা যে দাদন নিয়ে কষ্টে আছে। স্থানীয় মাস্তানরা যে মাছ নিয়ে চলে আসে। আবার কোস্ট গার্ড আইন অনুযায়ী  জাল পুড়িয়ে ফেলে। কিন্তু একটা জাল বুনতে কতো খরচ এবং একটা জেলের কতো স্বপ্ন লুকিয়ে। সবই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আমার অনুরোধ থাকবে, যেহেতু গল্পটি জেলে সম্প্রদায়কে নিয়ে এটি জেলে পারাতে প্রদর্শনী দেওয়া হউক। তিনি আরো বলেন, সন্দ্বীপে শিল্প-সাহিত্যের আরো উন্নয়ন হওয়া উচিত।  এই টেলিফিল্মে যারা অভিনয় করেছে তারা কেউ সাংবাদিক কেউ লেখক কেউ শিক্ষক। এই পরিবারকে আরো সমৃদ্ধি করবে যদি আমরা পৃষ্ঠপোষকতা করি। আমি সন্দ্বীপের ব্যবসায়ী এবং  সবাইকে আহবান জানাবো শিল্প সংস্কৃতির বিকাশ  এবং তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্যে  আপনারা পৃষ্ঠপোষকতা করুন। এই টেলিফিল্মের পৃষ্ঠপোষকতা করায়  আমি রুপালী লাইফ ইনসিওরেন্স'কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খিসা বলেন,  পুরো টেলিফিল্মটি দেখে মনে হয় নি সন্দ্বীপে নির্মিত। এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি নির্মাণ। সন্দ্বীপে যে শিল্প সাহিত্যে সমৃদ্ধ তা এই ডুবোচর টেলিফিল্ম এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। উপজেলা পরিষদের একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনে শিল্প সংস্কৃতি চর্চার জন্যে একটি রুম দেওয়া হবে।  

ভোরের পাখি সাহিত্য মেলার সভাপতি ইসমাইল হোসেন মনি'র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান জেবুন্নেসা চৌধুরী জেসি, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাব সভাপতি  রহিম মোহাম্মদ, সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।
লেখক কাজী শামসুল আহসান খোকনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, সন্দ্বীপের শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের  গুনিজনরা, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ,  রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ীরা, জেলে সম্প্রদায় এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।

অডিটোরিয়াম ছিলো কানাই কানাই পরিপূর্ণ।  এমন সাড়া পাওয়াটা স্বাভাবিক ছিলো। কারণ বেশকিছু দিন আগে টেলিফিল্মটি প্রচারের  ঘোষণা করে ছিলো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান "দ্বীপ এন্টারটেইনমেন্ট মিডিয়া গ্রুফ"। এর পর পর  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

ইসমাইল হোসেন মনি'র "আয় ফিরে আয়" গল্প অবলম্বনে নির্মিত টেলিফিল্ম "ডুবোচর" একটি ইতিহাসের সৃষ্টি করেছে সন্দ্বীপের বুকে।  জেলে সম্প্রদায় এবং দুই বন্ধুর ভালোবাসা  নিয়ে তৈরি এই টেলিফিল্ম। এই টেলিফিল্মে দুইটি গান রয়েছে। মূল গানটি লিখেছেন ইসমাইল হোসেন মনি। আর রানী গানটি লিখেছেন সাইফ রাব্বী। গানের সুর ও কন্ঠ দিয়েছেন আমিনুর রসুল।
রানী গানটি অনলাইনে রিলিজ করে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। মূল গানটি রিলিজের পর সারা দেশে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। এমটা জানালেন টেলিফিল্মের পরিচালক সাইফ রাব্বী'র।  
পরিচালক সাইফ রাব্বী বলেন, যারা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এসেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। সন্দ্বীপের মানুষ সংস্কৃতি এবং বিনোদন থেকে বঞ্চিত। এখানে কোন সিনেমা হল নেই।  আমরা চাইলে প্রদর্শনী না দিয়ে ইউটিউবে প্রচার করতে পারতাম। কিন্তু বড় পর্দায় দেখার মজা আলাদা।
 
অনেকদিন ধরে এই টেলিফিল্মটির জন্যে অপেক্ষা করে আসছিলো লক্ষ লক্ষ মানুষ। প্রদর্শনীর মাধ্যমে এটি শুভ মুক্তি পেলো। কিন্তু যারা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে আসতে পারেন নি। তাদের জন্যে টেলিফিল্মটি ইউটিউবে প্রচার করা হয়েছে বলে জানালেন, টেলিফিল্মের আরেক পরিচালক মিজানুর রহমান টিটু।

বিনোদন


শেয়ার